সিলেট বিভাগের চার জেলায় সেপ্টেম্বর মাসে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৫১ জন। রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মাসিক প্রতিবেদনে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন সিএনজি ও টমটমের যাত্রী ও চালক। আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছিলেন। অর্থাৎ, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা ৯টি কমেছে এবং নিহতের সংখ্যা ২১ জন ও আহতের সংখ্যা ৭১ জন হ্রাস পেয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জেলাওয়ারি তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মৌলভীবাজারে। সেখানে ৯টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সিলেট জেলায় ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ১০ জন আহত, হবিগঞ্জে ৫টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১০ জন আহত এবং সুনামগঞ্জে ৪টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে।
দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিলেন ১০ জন। এছাড়া সিএনজি ও টমটম দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন। সব মিলিয়ে ১০টি দুর্ঘটনায় ১০ জন চালক এবং দুটি পৃথক ঘটনায় ২ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ৮টি ঘটনায় ৬ জন, মুখোমুখি সংঘর্ষের ৮টি ঘটনায় ৯ জন এবং গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকের তথ্যের পাশাপাশি নিসচার বিভিন্ন শাখার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ির অবাধ চলাচল, মোটরসাইকেল আরোহীদের মানহীন হেলমেট ব্যবহার, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়কের কাঠামোগত ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এসব বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।













