অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ওয়ানডে কাপে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন জেইক ফ্রেজার-ম্যাগার্ক। অ্যাডিলেডে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে ৬৩ বলে ১২২ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস উপহার দেন ২৪ বছর বয়সী এই ওপেনার। ১০টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৯ বলে। ডেভিড ওয়ার্নার নাকি লেগ স্পিনও করতে পারায় পরবর্তী শহীদ আফ্রিদি। ফ্রেজার–ম্যাগার্ক ১০ চার ও ৯ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি খেলার পথে ক্যারেন রোলটন ওভালের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার সম্পর্কও আরও স্পষ্ট হলো।
ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে থাকা ফ্রেজার-ম্যাগার্ক ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে একাই ২২ রান তুলে নেন এবং চতুর্থ ওভারে যোগ করেন আরও ১৭ রান। মাত্র ১৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েছেন। এর মাধ্যমে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের আগের ১৮ বলের ফিফটির রেকর্ডটিও ভেঙে দিলেন তিনি। এটি লিস্ট ‘এ’ ইতিহাসের যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ফিফটি, তবে বৈভব সূর্যবংশীর করা ১১ বলের বিশ্বরেকর্ড থেকে মাত্র ৩ বল দূরে থামতে হয় তাঁকে। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বৈভব সূর্যবংশীর ১১ বলে ফিফটির রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বিচারে ‘অসীম প্রতিভাধর’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটার ২০২৩ সালের অক্টোবরে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মাত্র ২৯ বলে সেঞ্চুরি করে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুততম শতকের রেকর্ড ভেঙে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন। তবে মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে জাতীয় দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কিছুটা পেছনে পড়ে যান তিনি। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া ফ্রেজার-ম্যাগার্ক সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন এবং আইপিএলের গত নিলামেও দল পাননি। তার আগে ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও জায়গা হয়নি। তখন মনে হচ্ছিল, ২০২৩ সালে মার্শ কাপে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে পেছনে ফেলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের গড়া ২৯ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটা বুঝি ভেঙেই দেবেন। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের এই নতুন প্রতিভা কার মতো হবেন। কিন্তু সেই ফ্রেজার–ম্যাগার্ক কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেললেও সর্বশেষ আইপিএলে তাঁকে কেউ কেনেনি। ভারত কেন মোহাম্মদ শামিকে বারবার উপেক্ষা করছে।
ক্যারেন রোলটন ওভালের মাঠে ফ্রেজার-ম্যাগার্কের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান আবারও নজর কেড়েছে। এই মাঠে খেলা ৬ ইনিংসে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও একটি ৮৮ রানের ইনিংস, যেখানে তাঁর গড় ৬৮.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট ২০৪.৯৭। অথচ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সামগ্রিকভাবে ৩৭ ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং গড় ২৬.৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩২.৮৩।

















