লিওনেল মেসির অবসরের পর আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পথচলায় বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচের সূচি চূড়ান্ত করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি এবার ঘরের মাঠে মোকাবিলা করবে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকাকে। গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানেন মেসি। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে সেই বিদায়ী ম্যাচে নিজে গোল করার পাশাপাশি দুটি গোল করিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। মেসির পাশাপাশি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও অবসরে গেছেন, যার ফলে দলের নেতৃত্বে এসেছে পরিবর্তন। সর্বশেষ বিরতিতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, যার নেতৃত্বেই পরবর্তী ম্যাচগুলো খেলার সম্ভাবনা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের বিখ্যাত লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর চার দিন পর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার মোকাবিলা করবে দলটি। মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের বিরতিতে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে এবং বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিয়েছিল। এখন নভেম্বরের এই দুটি ম্যাচ দলের জন্য নতুন সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পরবর্তী অধ্যায় এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। বিশ্বকাপজয়ী দলটি এবার মেসিকে ছাড়াই নিজেদের শক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নতুন রূপ তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও ফুটবল অঙ্গনে বেশ চর্চা চলছে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েও তিনি পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। বর্তমানে সবকিছু ঠিক থাকলে স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এমনকি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে নতুন চুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে বিশেষ উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার। এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে খেলতে হবে না, তাই প্রীতি ম্যাচগুলোই তাদের প্রস্তুতির মূল মঞ্চ হয়ে উঠেছে।















