বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিষয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিল চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। সংবেদনশীল তথ্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি তাদের তিন গবেষককে বরখাস্ত করেছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের নাম প্রকাশ করেনি।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া তিন গবেষক হলেন জেসমিন ওয়াং, তোমেক কোরবাক এবং মিকিতা বালেসনি। এএফপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে ওই কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার করেছেন, যা আস্থার সংকট তৈরি করেছে। এক বিবৃতিতে ওপেনএআই এএফপিকে বলেছে, ‘আমরা তিনজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। ওপেনএআইয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন তোমেক কোরবাক।
সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া এই কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এআই নিরাপত্তা ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত সরব ছিলেন। মিকিতা বালেসনি গত ১০ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছিলেন, এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। এছাড়া তোমেক কোরবাক ১১ সেপ্টেম্বর লিখেছিলেন, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনেক বিষয়েই তিনি অসন্তুষ্ট। মিকিতা বালেসনি গত ১০ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমি ওপেনএআইয়ে কাজ করি এবং আমার মনে হয়, এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। তবে আমি খুবই খুশি যে এ কথা বলার সুযোগ আমাকে দেওয়া হচ্ছে।’।
এআই শিল্পের এই অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন গত মাসে অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে মানুষের জীবন নিয়ে এক ধরনের জুয়া খেলছে। মূলত শক্তিশালী মডেলগুলোর নিরাপত্তা এবং অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে ২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কয়েকজন কর্মীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, এআই মডেলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ওপেনএআই সম্প্রতি তাদের নতুন মডেল ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ প্রকাশের পরিকল্পনা বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছে যে, এই মডেলটি পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এতে নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা রয়েছে। প্রযুক্তিটির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলমান বিতর্ক এ ঘটনার মাধ্যমে আরও জোরদার হলো।

















