প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিএনপির মিডিয়া সেল মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংসদ থেকে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকেরা তাকে পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। এ সময় তিনি শুধু বলেন, আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি। এর আগে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার বা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামটি আলোচনায় উঠে আসে। বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওই সমিতির সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকলেও, তারাই ব্যবস্থাপনা কমিটির সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকায় তারা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
ফেরদৌসী আহমেদের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা
- ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। সেই সময় তিনি ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই সমিতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন।
- এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
- বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
- এছাড়া বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১৪ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়।

















