রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ মাঠে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাবেক ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুর আগে হামে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান সাদিক কায়েমের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুকে তিনি যেভাবে সাজিয়েছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিকেও তিনি সেভাবে গড়ে তুলবেন বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তরের প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের খাল ও আবর্জনা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ বর্তমান সরকারকে আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেব না। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং শান্তি নিশ্চিত করা। তিনি অভিযোগ করেন যে, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অনুদান দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আগ্রহ দেখালেও কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা করছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। রাতের অন্ধকারে রাড্ডা সেন্টার ভেঙে চুরমার করে দেওয়া, সব সম্পদ লুণ্ঠন করার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে-আবডালে, পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে, সরকার পাহারা দেবে, এটা সরকারের কাজ।’। তারা (সরকার) নিজেরা কিছু করবে না, জামায়াতকেও কিছু করতে দেবে না।’। সরকার যেন ব্যর্থতা স্বীকার করে নেয়।’।
রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুর ও সম্পদ লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই ঘটনার পেছনে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। জনগণের চোখে ধুলো দিতে একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করালেও তাঁকে বহিষ্কার বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এখনো দুষ্কৃতকারীরা আইনের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁরা অনুদানের টাকা বুঝিয়ে দিতে কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ধানাইপানাই লক্ষ করা যাচ্ছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকার ডেঙ্গু ও হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর দায় অন্যের ওপর চাপাচ্ছে। বিমানবন্দরের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলে অভিহিত করেন তিনি এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান।
ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। এসময় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















