বরফে ঢাকা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে লুকিয়ে থাকা হাজার হাজার হিমশৈল এতদিন অধরাই ছিল। সমুদ্রের স্রোতে ভেসে না বেড়ানো ও ওপর থেকে দেখা না যাওয়ায় এগুলো শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা প্রথমবারের মতো এই হিমশৈলগুলোর একটি নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। স্যাটেলাইট রাডার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টার্কটিকার উপকূলজুড়ে মোট ৩৯ হাজার ৬১৯টি স্থায়ী হিমশৈল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ হিমশৈলের আয়তন এক বর্গকিলোমিটারের কম। এই ছোট আকৃতির হিমশৈলগুলো একত্রে একটি প্রাকৃতিক বেষ্টনী বা দেয়ালের মতো কাজ করে, যা বিশাল আকারের বরফের চাঙড়গুলোকে বাতাসের ধাক্কায় ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মহাদেশটির মাত্র ১৪ শতাংশ উপকূলে প্রায় ৮০ শতাংশ হিমশৈলের অবস্থান রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই ছোট হিমশৈলগুলো দ্রুত গলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই হিমশৈলগুলো সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। নতুন তৈরি করা এই মানচিত্রটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যান্টার্কটিকার বরফে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা বুঝতে বিজ্ঞানীদের জন্য বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

















