কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড়ের বিজয়পুর এলাকার সানন্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দায়ীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার পিতা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার সন্তান কীভাবে হত্যা হলো, এটা আমরা কখনো চিন্তা করিনি। আমাদের সর্বোচ্চ চিন্তা ছিল পথেঘাটে কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে।
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান। সভায় কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, পথঘাটে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা সবসময় থাকলেও তাদের সন্তানকে এভাবে কেউ শেষ করে দেবে, তা তারা কখনোই ভাবেননি। পুরো ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি চার্জশিটে অপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়, সে ব্যাপারে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত এবং যাদের নিয়ে তদন্ত চলছে, চার্জশিটে তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই সচেতনতা দেখে ভালো লাগছে।
অপ্রতিমকে কুমিল্লারই সন্তান হিসেবে বর্ণনা করে তার বাবা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, কুমিল্লা শহর অপ্রতিমের বড় হয়ে ওঠার জায়গা। এখানকার মানুষের ভালোবাসায় সে প্রথম হাঁটতে ও কথা বলতে শিখেছে। তাই তার এই চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং কুমিল্লার প্রতিটি মানুষের ক্ষতি। কুমিল্লার সচেতন নাগরিক সমাজও এই নিষ্ঠুর ঘটনার সঠিক বিচার চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি জানান, আটককৃতদের বয়স নির্ধারণে বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। শিশু আইনের বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি জানান, গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে যাদের পাঠানো হয়েছে, বায়োলজিক্যাল বা রেডিওলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে যেন তাদের প্রকৃত বয়স সুনির্দিষ্ট করা হয়। এ ধরনের সচেতনতামূলক সভা অবশ্যই ইতিবাচক, তবে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে তা আরও বেশি সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।

















