কুমিল্লা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে তিনটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান আজ সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে জেলা পুলিশ এই বিশেষ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তিনটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাংয়ের পাঁছজন সক্রিয় মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি ইউনিট কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি, মারামারি ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের নেতৃত্বাধীন গ্যাংগুলো হলো
- স্ম্যাশ স্কোয়াড গ্যাংয়ের প্রধান জিসান (১৯) ও অন্যতম নেতা সাইফুল ইসলাম (২০)।
- ১২০৭ গ্যাংয়ের প্রধান তারেক হোসেন সৈকত (১৯)।
- ১২০৭ গ্যাংয়ের অপর সদস্য জাফর আহমদ (২৩)।
- পিএক্স ১০ (PX 10) গ্যাংয়ের প্রধান ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।
পুলিশ জানিয়েছে, জিসানের বাড়ি নগরের তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুরপাড়, সাইফুলের বাড়ি আড়াইওড়া সমিতিপাড়া, তারেকের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের নলিশ্বর, জাফরের বাড়ি কোমারডোগা মধ্যমপাড়া এবং ওই কিশোরের বাড়ি মনোহরগঞ্জের পোমগাঁও এলাকায়। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরসহ জেলার ১৮টি থানায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে এই উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
চলমান পাঁচ দফার এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে প্রথম দফায় ৬২৪, দ্বিতীয় দফায় ২৫৪, তৃতীয় দফায় ৪১৫, চতুর্থ দফায় ৩৭৯ এবং পঞ্চম দফায় ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পঞ্চম দফার অভিযানেই কুমিল্লার আলোচিত ‘আর স্কোয়াড’ বা ‘রতন গ্রুপ’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রতনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ গুরুতর অভিযোগে ৯টি মামলা রয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক, পূর্বের মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধের সম্পৃক্ততা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

















