স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে অভিহিত করে এই ব্যবস্থাকে সরাসরি জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণবিষয়ক এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি সৌরশক্তি ব্যবহারে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করেন। সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সৌরবিদ্যুতের বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের কোনো কারণ নেই। বিরোধী দলের ডাকা শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যেও গত পাঁচ দিনে দেশে ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া গত সাত মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে মোট ঋণের বোঝা ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন। মীর শাহে আলম জাতীয় সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, জাতিসংঘের অধিবেশনে সরকারের অর্জিত সাফল্য আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে রাড্ডা ও নিউগিনি প্রকল্পে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত ১ হাজার ৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের মতো দেশ সৌরশক্তি থেকে ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। বাসাবাড়িতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে জানিয়ে তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার কারণে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দেবেন।

















