যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। নিউ ইয়র্কের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা কেবল শুরু মাত্র। যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মঙ্গল না চাওয়া হবে, ততক্ষণ এমন ঘটনা বিশ্বজুড়ে ঘটতেই থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। উনি অন্যায়ভাবে, অসাংবিধানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন। তার সময়কালে এক লাখেরও বেশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। এই সেই ব্যক্তি, যার ওপর আজকে ঘটনাটি ঘটেছে, নট নোবেল লরিয়েট, সারা পৃথিবীতে যাকে নিয়ে আমরা অনেকে গর্ব করি, তাকে না, ওই ব্যক্তিটি—যিনি এই কাজগুলো করেছেন।’। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব যখন আসেন, তার আগেও আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম যে—যারা তার সফরসঙ্গী হিসেবে আসবেন এখানে, সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা করবেন।
ড. সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, ড. ইউনূস যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের ফল। তার ভাষায়, তিনি নোবেল বিজয়ী বলেই এমনটা ঘটছে তা নয়, বরং গত দুই বছরে তার নেওয়া অসাংবিধানিক পদক্ষেপগুলোর প্রতিক্রিয়াই এর কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস অসাংবিধানিক পন্থায় সরকার গঠন করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তার শাসনামলে পুলিশ সদস্যদের নিহতের ঘটনায় ইনডেমনিটি প্রদান ও লক্ষাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি রাখার অভিযোগও করেন এই নেতা। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, যে দলটি দেশকে স্বাধীন করেছে, সেই দলের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড অভিমান ও আক্রোশ রয়েছে। তার মতে, যেখানেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে পাবেন, সেখানেই এমন বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে, যা মব কালচারেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আইনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আইনের ভেতরেই তারা থাকতে চান এবং হেনস্তার ঘটনায় শারীরিক কোনো নির্যাতন হয়নি, কেবল মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।
তারেক রহমানের সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার সফরসঙ্গীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সিদ্দিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, এটি কোনো পরিকল্পিত প্রতিশোধ নয়, বরং যারা স্বজন হারিয়েছেন বা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাদের রাগের বহিঃপ্রকাশ। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করার অধিকার দেওয়া হবে এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো সুরাহা হবে না।
আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্টো প্রশ্ন তুলে বলেন, ক্ষমা চাওয়ার দায় কেন তাদের হবে? ৫ই আগস্ট পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি কমিশন তদন্ত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তোফায়েল আহমেদের জানাজা সংসদ ভবনে করতে না দেওয়া এবং নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ অনিবার্য। ড. ইউনূসের পরিণতি নিয়ে তিনি বলেন, যারা এই দেশটাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন, তাদের সবারই এমন পরিণতি হতে পারে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার ও সবাইকে নিয়ে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন, অন্যথায় অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

















