সৌদি আরবের নিরাপত্তা যে পুরো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে কাতার। সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাতার তথা সমগ্র উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) যৌথ নিরাপত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতারের মন্ত্রিসভা।
বুধবার দোহায় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভার শুরুতেই সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর தொடர்ச்சী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। কাতার একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় সৌদি আরবের অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বৈঠকে সম্প্রতি শূরা কাউন্সিলে আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির দেওয়া ভাষণটিকে সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের কাজের প্রধান দিকনির্দেশনা হিসেবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২০৩০ মেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে শিশুদের অধিকার ও ডিজিটাল সুরক্ষাবিষয়ক নতুন খসড়া আইন অনুমোদন করা হয়েছে। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই খসড়া আইনটি আগামী ১০ দিন সর্বসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য সরকারের ‘আল মিযান’ আইনি পোর্টাল ও ‘শারিক’ প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত রাখা হবে।
একই বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং কাতারএনার্জির যৌথ উদ্যোগে তৈরি তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক নির্দেশিকা নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় উপাদান পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড বজায় রাখা হবে এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য। এছাড়া কাতার-আর্মেনিয়া বিচারিক সহযোগিতা এবং কাতার-বাহরাইন পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকও এই সভায় পাস করা হয়েছে।

















