হরমুজ প্রণালিতে এক রাতের ব্যবধানে সাতটি তেলবাহী জাহাজ আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার মধ্যে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সংঘাতের ঝুঁকিকে আরও উসকে দিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি নৌ-মাইনের বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয় এবং বাকি চারটিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সরাসরি হামলা চালায়।
তেহরানের দাবি, আক্রমণ হওয়া এই সাতটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং ওয়াশিংটনের প্ররোচনায় তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছিল। এই হামলার দায়ভার ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামুদ্রিক অবরোধকে তারা সরাসরি যুদ্ধের শামিল হিসেবে গণ্য করবে। বাহিনীটি জানিয়েছে, তারা এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় বসে থাকবে না, বরং নিজেদের সুরক্ষায় আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও উৎসাহে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করবে, সেগুলো তাদের কঠোর নজরদারিতে থাকবে। আগামী দিনে আরও জাহাজ এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে ইরান তাদের এই হুমকিগুলো কতটা কার্যকর করে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরেও এই আশঙ্কার প্রভাব স্পষ্ট; দেশটিতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি চলছে এবং যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে এই ধরনের হামলা ও মাইনের বিস্ফোরণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

















