রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে তিনি বিগত দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্রশিবিরের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিরা প্রায়ই বলতেন, ‘আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিতব, সেদিন বাংলাদেশে ইসলাম বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ডাকসুসহ দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে যে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই পূর্বাভাস। ছাত্রজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা যখন শিবির করতাম, তখন কেন্দ্রীয় সভাপতিদের কাছে জানতে চাইতাম—দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংসদে আমরা বিজয়ী হচ্ছি, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে বিজয়ী হব। আজ ডাকসুতে বিজয়ের মাধ্যমে এবং দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের সাফল্যের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের স্পষ্ট আলামত জাতি প্রত্যক্ষ করছে।’।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেদিন লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও বামপন্থীরা। জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী মঞ্চে থাকা অবস্থায় কর্মীরা বুক দিয়ে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই রক্তপাতের পথ ধরেই পরে এক-এগারোর সরকার এবং দীর্ঘ স্বৈরশাসনের সূচনা হয়েছিল। তারা শহীদ হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, তবুও বাতিলের রক্তচক্ষুর সামনে মাথা নত করেননি।’।
জামায়াত নেতা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও শীর্ষ নেতাদের বিচারিক হত্যার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, যা পরে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভেঙে পড়ে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে কোনো সমঝোতার জন্য নয়। যদি কেউ অতীতে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী চরিত্র গ্রহণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার অবমাননা করে, তবে তারাও ক্ষমা পাবে না। অবশেষে তিনি পল্টন ট্র্যাজেডিসহ গত দেড় দশকের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

















