দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল পাঠদানের কেন্দ্র নয়, বরং উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে নিবিড় গবেষণা সমন্বয়, উদ্ভাবনী প্রকল্পের বাণিজ্যিকীকরণ, পেটেন্ট সুবিধা এবং সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনকেন্দ্র বা ইনকিউবেশন হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ উপলক্ষে ‘উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্বকালে এসব কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখছে, তা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণার প্রাণকেন্দ্র ও অর্থনীতির কার্যকর অংশীদার হিসেবে রূপান্তর করা সময়ের দাবি।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ড. মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসাধারণ উদ্ভাবনী চিন্তা ও আইডিয়া রয়েছে। এই ধারণাগুলোকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বাণিজ্যিক পর্যায়ে উন্নীত করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সময়ের প্রয়োজনে তাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। আমরাও সেই পথ অনুসরণ করে, তবে বিদেশের অন্ধ অনুকরণ না করে দেশের বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঢেলে সাজাতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সক্ষম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ইনকিউবেশন হাব তৈরি করা হবে, যেখানে নতুন উদ্যোক্তারা হাতে-কলমে সহায়তা পাবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে ইউজিসির।
আলোচনায় পেটেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উদ্ভাবন ও সমাধানভিত্তিক কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করতে প্রথম ধাপে পাঁচটি থেকে দশটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্বাচন করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সঞ্চালনায় এই গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা জোহরা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি, বিসিক, ব্র্যাক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।











