দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত শেষে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনটিতে ওই সময়ের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ওপর সম্পূর্ণ দায় চাপানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আসিফ নজরুল জানান, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তার নিজেরই ছিল এবং তিনি আগে থেকেই এটি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন একটি বিষয় নতুন করে তদন্ত করে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সিদ্ধান্তের পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়াই ছিল ঘটনার প্রধান সূত্রপাত। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা দেখা দেয়। তিনি জানান, দেশের মর্যাদা রক্ষা, ক্রিকেটার, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
সাবেক এই উপদেষ্টা আরও জানান, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই নিরাপত্তা শঙ্কার তিনটি সুস্পষ্ট কারণ—দলে মোস্তাফিজের উপস্থিতি, বাংলাদেশি সমর্থকদের উন্মুক্ত চলাফেরা এবং নির্বাচন ঘেনঘেন পরিবেশের কথা স্বীকৃত ছিল, যা বাংলাতেও অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়। তিনি জানান, ভারত ছাড়া বিকল্প কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার জন্য নানা চেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং কিছু দেশের সমর্থনও মিলছিল। তবে আইসিসিতে ভারতীয় প্রভাবের কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, এমনকি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাদের নিয়ে যাওয়ার কোনো উদ্যোগ ছিল না। সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো অপমান চুপচাপ মেনে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬ মাস তদন্তের পর মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল।














