যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। গত সোমবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এয়ার অ্যান্ড স্পেস সাইবার কনফারেন্সে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে কক্ষপথে মোতায়েনযোগ্য ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে। এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আক্রমণ থেকে মার্কিন যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে এই অস্ত্রগুলোর ধরন কেমন কিংবা এগুলো ঠিক কীভাবে পরিচালনা করা হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি মেইঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
এর আগে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, রাশিয়া মহাকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য একটি নতুন স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। সে সময় হোয়াইট হাউস এটিকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো বিপদ হিসেবে দেখেনি। তবে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের ওপর মার্কিন যোগাযোগ ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায়, মহাকাশে বেইজিং ও মস্কোর সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সামরিক বাহিনীর অংশ হিসেবে বিশেষায়িত ‘স্পেস ফোর্স’ গঠন করেছিলেন।
সম্মেলনে ট্রয় মেইঙ্ক আরও জানান যে, বিমানবাহিনীতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সার্বিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আগামী দিনে যুদ্ধক্ষেত্রে কামান বা প্রচলিত আর্টিলারির বিকল্প হিসেবে একমুখী হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোনগুলোই প্রধান মারণাস্ত্র হয়ে উঠবে। উদ্ভূত সকল পরিস্থিতি ও হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক আরও জানান, বিমানবাহিনী তাদের সক্ষমতার মধ্যে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুক্ত করছে।

















