রাশিয়া ও চীনের সাথে বিশ্বব্যাপী চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, তারা মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে। মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক এই গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মেইঙ্ক স্পষ্টভাবে বলেন, নতুন যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। কক্ষপথে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অস্ত্র রয়েছে, যা যেকোনো শত্রুপক্ষের হামলা থেকে তাদের যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। তিনি এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে নিজের এই বক্তব্যের ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি তিনি; কেবল জানিয়েছেন, তার শব্দচয়ন খুব ভেবেচিন্তেই করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা ইঙ্গিত করেছেন, তা দিয়ে যেকোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব। বিষয়টি মহাকাশের সামরিকীকরণের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ‘স্পেস ফোর্স’ গঠন করেন এবং মহাকাশকে পৃথিবীর নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তিনি ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি উচ্চাভিলাষী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার কথা জানান, যেখানে মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনেককে ১৯৮৩ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের আলোচিত ‘স্টার ওয়ার্স’ বা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনাও কম নয়। গত মার্চ মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পকে মহাকাশের সামরিকীকরণ আখ্যা দিয়ে এর কড়া নিন্দা জানান। তিনি একে কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।
মহাকাশ গবেষণায় সামরিক কার্যক্রম নতুন কিছু নয়। ২০০০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং ভারত—এই চারটি দেশই স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে রাশিয়া সফলভাবে সোভিয়েত আমলের একটি অকেজো গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় রাশিয়ার দাবি ছিল, তাদের এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে ছিল না।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারে রয়েছে কড়াকড়ি। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই নীতি ভবিষ্যতে মহাকাশ রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন,‘বরাবরের মতো আজও আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকি।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শত শত উপগ্রহের সমন্বয়ে তৈরি ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নকশা নির্বাচন করলেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে সেগুলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রিগ্যানের উচ্চাভিলাষী এ কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়।















