কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই অপ্রতিমকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে অপ্রতিম তার মায়ের আইফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে তাকে ঘিরে ফেলে আসামিরা। অপ্রতিম ফোনটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশি অভিযানে তুহিনের বাসার তোশকের নিচ থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, প্রধান অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করা ড্রপআউট শিক্ষার্থী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন ও ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ এই মামলায় দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং আদালতের কাছে বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আবেদন জানাবে।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আকুতি জানিয়েছিলেন। গত শনিবার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল। পরিবারটি কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকায় বসবাস করত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলমান রেখেছি।

















