মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করেছেন, যা এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এই নতুন আইনের আওতায় ওয়াশিংটন রুশ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচটি ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান আমদানির চিত্র বিবেচনায় নিলে ভারত এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান মাস্ট এবং তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রতিনিধিদলটি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিক্রম মিশ্রি এবং প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও মার্কিন প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি পাস হওয়া এসআরআইএ আইনের প্রভাব নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, এই আইন কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারত “প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে” দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিনিধিদলের কর্মসূচি অনুযায়ী, দিল্লিতে বৈঠকের পর তারা হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় সফর করেছেন। সেখানে তারা নির্বাসিত তিব্বতি সরকারের প্রধান এবং দালাই লামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ কংগ্রেসের একটি দল দালাই লামার সঙ্গে দেখা করেছিল, যা নিয়ে সে সময় চীন সরকার কড়া সমালোচনা করেছিল। সেখানে তারা ২০২৫ সালে নির্বাসিত তিব্বতি সরকারের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সফরের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল আগ্রায় ভ্রমণ। ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান মাস্ট ও তার সঙ্গীরা তাজমহল পরিদর্শন করেন। মূলত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং বিতর্কিত শুল্ক আরোপের বিষয়টি এই সফরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

















