খুলনার কয়রা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসার প্রয়াত সাবেক উপাধ্যক্ষ আব্দুল হাই শেখের পেনশনের পাওনা অর্থ বণ্টন নিয়ে পরিবারে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রয়াত উপাধ্যক্ষের প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুনকে পেনশনের অর্থ থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর প্রথম পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এর ফলে তাঁর মা সাজেদা খাতুন পেনশনের অর্থের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
অভিযোগকারী মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই রাতে তাঁর বাবা আব্দুল হাই শেখ দ্বিতীয় পরিবারের বাড়িতে মারা যান। ওই ঘটনায় তাঁর চাচা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানারা সুলতানা বেবি ও ছেলে মাসুদ বিল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট একটি হলফনামার মাধ্যমে সেই মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে আব্দুস সাত্তার মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুস্তাকিমের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তাঁর চাচা পেনশনের অর্থ দ্বিতীয় পরিবারকে পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করছেন, যা আইনত প্রথম স্ত্রীকে বঞ্চিত করার নামান্তর।
সূত্রমতে, ঘটনার দেড় মাস পর ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম যে ওয়ারিশ কায়েম সনদ দিয়েছিলেন, সেখানে প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুন, দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানারা সুলতানা বেবি এবং আব্দুল হাই শেখের ছয় সন্তানের নামই উল্লেখ ছিল। মুস্তাকিমের অভিযোগ, এখন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অজুহাতে তাঁকে পাওনা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও তালাকের বিষয়টি বা আইনগত প্রভাব সম্পর্কে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া উপাধ্যক্ষ আব্দুল হাই শেখের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে একটি মামলা (জিআর ১৬৫/১৭) বর্তমানে খুলনার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটির নম্বর জিআর ১৬৫/১৭।
এ বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রথম পরিবারের সদস্যরা এখন পেনশনের অর্থ বণ্টনে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

















