আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে, যা গতবারের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। বিগত বছরগুলোতে মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি এবং তার আগের বছরগুলোতে ছিল ২৮ হাজারের মতো। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবুও উৎসবজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি সংস্থাগুলোকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এর আগে নির্বাচনের সময় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ব্যবহার করেছিল। স্থানীয় কর্মকর্তাদের এই অ্যাপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরসহ জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল সক্রিয় থাকবে। এসব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আয়োজকদের জেনারেটর প্রস্তুত রাখার এবং বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল লাইট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ বছর দুর্গাপূজার জন্য সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এ বছর দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। তার মতে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় দেশে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বর্তমানে অনেক উন্নত। উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

















