বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করেছিল। তৃতীয় দিনের শুরুটাও সফরকারীদের জন্য বেশ ইতিবাচক ছিল, যেখানে তারা কোনো উইকেট না হারিয়েই সেশনে ৭৯ রান যোগ করে। তবে দুপুরের খাবারের বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের দুর্দান্ত স্পিনে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ২ উইকেটে ৭৯ রান যোগ করে মধ্যাহ্নবিরতিতে গিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও ইতিবাচক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।সেশনের প্রথম ১৪ বলে তার চার মেরেছিল ৪টি। এই ৪ উইকেট নেয়ার পথে টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ হয়েছে তার। তৃতীয় দিনও শুরুটা ভালো হয়েছিল সফরকারীদের।
দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার ত্যাগনারায়ন চন্দরপল তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন। তবে অর্ধশতক পূর্ণ করার পরই শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি, ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান। চন্দরপলের বিদায়ের পর রস্টন চেজ ও জাস্টিন গ্রিভস ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেশনের শেষ ওভারে নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে গ্রিভস সাজঘরে ফেরেন, সে সময় তিনি ফিফটির খুব কাছে ছিলেন। এর আগে মিরাজের বলে সিলি পয়েন্টে রস্টন চেজের একটি ক্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন মুমিনুল হক।
দ্বিতীয় সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করলেও তা স্থায়ী হয়নি। মেহেদী হাসান মিরাজ জশিয়া বিশপকে আউট করে দলের ওপর চেপে বসা চাপ দূর করেন। এ সময় মিরাজ তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বর্তমানে তার সংগ্রহ ৫২ উইকেট। বলের হিসেবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ৫০ উইকেটের ক্লাবে জায়গা করে নিলেন। ম্যাচে মিরাজ মোট ৪টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ৩টি উইকেট শিকার করেন নাঈম হাসান। একই ওভারে তিনি শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিক্যানকে বিদায় করেন। নাঈমের শর্ট বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জোসেফ, আর ওয়ারিক্যান শর্ট বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন। ইনিংসের শেষ ব্যাটার জেইডন সিলসকে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে নাঈম ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের ইতি টানেন।
















