দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘চিরকুট’, ‘কাট–পিস’ ও ‘স্নেহের বন্ধন’—এই তিনটি দেশীয় সিনেমা মুক্তি পায়। উৎসবের মৌসুমে একসঙ্গে তিনটি ছবি মুক্তি পাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানার ক্ষেত্রে ছবিগুলো কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে বন্ধুদের সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, সিনেমার মান ও প্রচারণার ঘাটতি এখনো বড় সমস্যা। নিয়মিত সিনেমা দেখা ষাটোর্ধ্ব আরিফুর নাহার রোববার ঢাকার পান্থপথের স্টার সিনেপ্লেক্সে হলিউডের ‘স্ট্রিট ফাইটার’ দেখতে গিয়ে ‘চিরকুট’ সিনেমাটি দেখেন। তবে সিনেমাটি দেখে তিনি তৃপ্ত নন। তাঁর মতে, ‘ছবি দেখি, কিন্তু মন তো ভরে না। সিনেমা মুক্তির আগে প্রচারণা খুব জরুরি। এ জন্য সঠিক পরিকল্পনা থাকা উচিত।’ হলিউড ও কোরীয় সিনেমার পাশাপাশি বাংলাদেশের ছবিও দেখেন। পূজায় সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেভাবে কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।
রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ সিনেপ্লেক্সের ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান জানান, তাঁদের সেখানে ‘চিরকুট’ ও ‘কাট–পিস’ প্রদর্শিত হচ্ছিল। তবে মুক্তির তৃতীয় দিনেই ‘কাট–পিস’ সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। ‘চিরকুট’ সিনেমার দর্শক উপস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। মেহেদী জানান, ‘প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দর্শক থাকছেন। আশা করছি, আগামী শুক্রবার তা বেড়ে ৭০ শতাংশে যেতে পারে। রাজশাহী অঞ্চলের গল্প হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলাদা আবেগ কাজ করছে। তবে ছবিটির প্রচারণা আরও বেশি দরকার ছিল।’ পরিচিত অনেক মুখ থাকলেও তাঁদের দিয়ে পোস্টার করা হয়নি।’।
রাজধানীর উত্তরার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় হাসান ‘চিরকুট’ সিনেমাটি দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, কয়েকবার বেড়াতেও গেছি। ফেসবুকে “রাজশাহীর গল্প এবার বড় পর্দায়” প্রচারণাটি দেখে সিনেমাটি দেখার সিদ্ধান্ত নিই। ছবিটিতে ভালো হওয়ার মতো অনেক কিছুই ছিল।’ দুই বন্ধু সোমবার সেন্টার পয়েন্টে ‘চিরকুট’ দেখেছেন।
অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে চিত্রটি ভিন্ন। প্রেক্ষাগৃহটির প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক জানিয়েছেন, সেখানে ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাট–পিস’ দেখতে দর্শক উপস্থিতি খুবই কম, যা মোট আসনের ১০ শতাংশও পূরণ করতে পারছে না। ঢাকার শ্যামলী সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ জানান, ৩১৬ আসনের প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন ‘কাট–পিস’-এর চারটি প্রদর্শনী চললেও প্রতিটি শোতে ১০টির বেশি টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। তাঁর মতে, হাতে ভালো সিনেমা নেই বলেই বাধ্য হয়ে এগুলো চালাতে হচ্ছে, তবে নির্মাতাদের দর্শকদের রুচি ও চাহিদার দিকে নজর দেওয়া উচিত। ৩১৬ আসনের প্রেক্ষাগৃহটিতে প্রতিটি প্রদর্শনীতে এখন পর্যন্ত ছবিটির ১০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়নি। যাঁরা সিনেমা বানান, তাঁদেরও দর্শকের রুচি ও চাহিদা বুঝতে হবে।’।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেনের মতে, সারা বছর মানসম্মত সিনেমা তৈরি হলে দর্শক এমনিতেই হলে ফিরবে। পূজায় সিনেমা মুক্তি পেলেও প্রচারণার অভাব ও কনটেন্টের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। বড় তারকার সিনেমা থাকলে উৎসবে দর্শকদের আগ্রহ বেশি থাকে, এই দিকটিও এখানে অনুপস্থিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।

















