চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে রবিন (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মেঘনা নদী থেকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ খুঁজে পায়। নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে লঞ্চের মাস্টার মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার মো. সুমন মিয়াকে (২৭) আটক করেছে নৌ-পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বেলা ১১টায়। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি ষাটনল ঘাটে যাত্রী নামানোর সময় রবিন নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই লঞ্চটি দ্রুত গতিতে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরবর্তীতে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল নিয়ে তল্লাশি শুরু হয় এবং নদীর স্রোত বিবেচনায় নিয়ে ভাটির দিকেও নজর রাখা হয়। চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই ডুবুরিরা এই অভিযান পরিচালনা করেছেন। নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া একটি ব্যাগের ভেতরে থাকা সিমকার্ডের সূত্র ধরেই রবিনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছিল, যা তার স্ত্রী নাসরিন রিসিভ করেছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেন, নম্বরটি তার স্বামী রবিনের। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিনের জন্মস্থান শরীয়তপুর।
নিহত রবিন শরীয়তপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং মা-বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। তার শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে। রবিন ও নাসরিন দম্পতির সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিখোঁজের খবর পেয়ে শুরু থেকেই বেলতলী ও মোহনপুর নৌ-পুলিশ, মতলব উত্তর থানা পুলিশ এবং স্থানীয়রা নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের পেশাদার ডুবুরি দলের প্রচেষ্টায় মরদেহ উদ্ধার সম্পন্ন হয়।

















