ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় স্মারক হিসেবে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটের জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়েছে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের ১০ নম্বর জার্সিটি। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে এই জার্সিটি ক্লাবটিকে উপহার দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। শুধু একটি পোশাক নয়, এই জার্সিটি মেসির অসংখ্য অর্জন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক হয়ে থাকবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবল ইতিহাসের এই স্মৃতি ধরে রাখতেই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে জার্সিটি।
বিদায়ী ম্যাচেও মেসি নিজের চিরচেনা ছন্দে ছিলেন। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে তাঁর ছিল সরাসরি অবদান। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে তাঁর কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি লক্ষ্যভেদ করেন। এরপর ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিকো পাজের দুর্দান্ত গোলটির পেছনেও ছিল মেসির নিখুঁত পাস। শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে জয় নিশ্চিত করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই কিংবদন্তি। তাতে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বিদায়ী ম্যাচটি ছিল আবেগে পরিপূর্ণ। গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয় তারকাকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর না দেখার বেদনার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটেছিল সেখানে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলায় মেসি খেলেছেন ২০৮টি ম্যাচ, যেখানে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৬। নিজের রেকর্ড ও কীর্তিগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়া মেসির এই জার্সিটির গায়ে রয়েছে তাঁর বিশেষ বার্তা, যা এখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০৮ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৬।
মেসির এই জার্সি জাদুঘরে জায়গা পাওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারের বাঁ পায়ের জাদু এবং সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তগুলো ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী রূপ পেল। বিদায়ের পরেও ভক্তদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকা এই স্মারকটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক আবেগী অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করছে। ফুটবলের কিছু মুহূর্ত মাঠের খেলা শেষ হওয়ার পরও ভক্তদের মনে অমলিন হয়ে থাকে। ভক্তদের চোখের জল আর কণ্ঠের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় স্মরণীয় এক পরিবেশ।

















