কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই। কুষ্টিয়ার চারটি আসনের তিনটিতেই জামায়াতের সংসদ সদস্য থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, জামায়াতের অনেক প্রয়াত বিচক্ষণ নেতা ইসলাম ও ফকির লালন শাহের দর্শনের মধ্যে কোনো বিরোধ আছে বলে মনে করতেন না। তিনি আরও বলেন, ফকির লালন ইসলাম সংস্কারের জন্য আসেননি এবং তিনি শরিয়ত বা মারফতের কোনো তর্কেও জড়াননি। তাদের মধ্যে বড় বড় নেতা যাঁরা এখন নাই, তাঁরা যদি জীবিত থাকতেন, তাঁরা ভিন্নভাবে ফকির লালনকে নিতেন।
রোববার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়িতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমি আয়োজিত ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যের এই সেমিনারে ‘ফকির লালন শাহ বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য’ শীর্ষক মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরহাদ মজহার।
তর্ক-বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, সমাজ ও ফকিরদের মধ্যে ভাবগত ভিন্নতা বা তর্ক থাকতে পারে, তবে তা যেন কারও ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত না করে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু আমরা যেন কারও অনুভূতিকে আহত না করি, আঘাত না করি।’।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ আল মামুন, অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী, সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার, জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও লালন অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার শেষে লালন একাডেমির শিল্পীরা লালন সংগীত পরিবেশন করেন। পরে সাংস্কৃতিক পর্বে লালন একাডেমির শিল্পীরা লালনের গান পরিবেশন করেন।

















