নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক জোবায়ের সরদারের দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দেন। ভিডিওতে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে শোনা যায়, যদি পুনরায় কোনো নেতাকর্মীর গায়ে হাত তোলা হয়, তবে এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে এবং প্রয়োজনে থানার ইট খুলে নেওয়া হবে। যদি আমার একটা নেতা-কর্মীর গায়ে হাত তোলে, আমি লাশের বদলে লাশ নেব। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফতুল্লা মডেল থানার ওসির কার্যালয়ের সামনে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদারসহ এনসিপির ৩০-৪০ নেতা-কর্মী অবস্থান করছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, একই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকায় এনসিপি নেতা তৌহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তৌহিদুল ইসলাম জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই হামলার প্রতিবাদে এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের নিয়ে জোবায়ের সরদার ফতুল্লা মডেল থানায় জড়ো হন।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় জোবায়ের সরদার জানান, ওই সময় থানার সামনের পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল এবং পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, কর্মীদের শান্ত করার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই ধরনের কথা বলেছিলেন। এছাড়া পুলিশের কাছে তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন। এদিকে এই ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার বাদী জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান উল্লেখ করেন, গত সোমবার বিকেলে বক্তাবলী ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকায় দলীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার সময় তাঁরা জানতে পারেন যে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করে তাঁরা নারায়ণগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে রাত সাড়ে আটটার দিকে বক্তাবলী বাজারে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের পথরোধ করে হামলা চালায়। এতে তৌহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হওয়ার পাশাপাশি তাঁর মুঠোফোন এবং ২২ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকেলে বক্তাবলী ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকায় দলীয় লোকজন নিয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আলাপ–আলোচনা করছিলেন বাদী ও তাঁর সহযোগীরা। স্থানীয় জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিসহ জনজীবন হুমকির সম্মুখীন হতে পারে মর্মে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি প্রতিহত করতে বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে তাঁরা নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। একপর্যায়ে তৌহিদুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার মাঝখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
এজাহারে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার প্রচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি হামলার সূত্রপাত হয়। তিনি আরও জানান, এনসিপি নেতার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে এবং সেখানে নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।












