চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে দারুল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসার পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় বাধ্য হয়ে পাশের মসজিদে পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এ পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার অসমাপ্ত তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সরকারি বরাদ্দ চেয়ে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, পরিচালনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১৫ নম্বর রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা-বদরপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফকির বাড়ির সামনে অবস্থিত দারুল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসাটি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় মানুষের দান-অনুদান ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিবছরই এ প্রতিষ্ঠান থেকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ তৈরি হচ্ছেন।
তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। ফলে বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। শ্রেণিকক্ষের সংকট মোকাবিলায় পাশের মসজিদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে ভবনের তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও অর্থসংকটে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা পেলে নির্মাণকাজ শেষ করে শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করবেন। এতে শুধু একটি ভবনের নির্মাণকাজই সম্পন্ন হবে না, বরং এলাকার কয়েকশ শিক্ষার্থীর দ্বীনি শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পথও সুগম হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহাম্মেদ ও রুহুল আমিন বলেন, আমরা এলাকার মানুষ সবাই মিলে তিলে তিলে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আমরা ভবনের তৃতীয় তলার কাজ শুরু করেছি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে কাজটি শেষ করতে পারছি না। সংসদ সদস্য এম এ হান্নান মহোদয় যদি আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন, তাহলে তৃতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও উন্নত হবে।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাম কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ কারণে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের অভাবে তাদের নিয়মিত পাঠদান করাতে আমাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা গেলে এ সংকট অনেকটাই দূর হবে। তাই এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম মুফতি ওমর ফারুক চাঁদপুরী বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় বর্তমানে শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসদ সদস্য এম এ হান্নান মহোদয় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে সহযোগিতা করলে আমরা নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব। এতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও উপযুক্ত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। আমরা তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

















