চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রাতের আঁধারে এক অসহায় অটো চালকের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন দুই সন্তানের জনক জসিম উদ্দিন চৌকিদার। তাঁর পায়ের গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত জসিম উদ্দিন চৌকিদার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১ নং চরদুঃখিয়া ইউনিয়নের পূর্ব একলাশপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন অটো চালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার রাতে উপজেলার হরিণা দুর্গাপুর গ্রামের মদিনা বাজারসংলগ্ন সৈয়দ তাহেরী মাদ্রাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে কয়েকজন ব্যক্তি জসিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁর পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
জসিমের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর সোমবার আহত জসিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪৬। পুলিশ মামলার ১নং আসামি নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার পর মামলার অপর অভিযুক্ত মাহাতিকে নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহাতি ১৪ নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের ভাতিজা। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে আড়াল করতে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, জসিম অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়ে গেছে। অথচ এখন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি আহত জসিমের সুচিকিৎসা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মামলার ১নং আসামি নূর হোসেন ও অপর অভিযুক্ত মাহাতির বাড়িতে গেলে তাঁদের পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ হোসেন ও মানিক হোসেন বলেন, রাতের বেলায় আমরা চা খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। পথে দেখি জসিম মাটিতে পড়ে চিৎকার করছেন। পরে আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। একজন মানুষকে এভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মামলার বাদী ও আহত জসিমের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার একমাত্র ছেলে জসিম। সে দুই সন্তানের বাবা। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা গরিব মানুষ, কেন আমাদের পরিবারের ওপর এমন হামলা করা হলো? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ উল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার ১নং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

















