চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন গোসাইলডাঙ্গার একটি ফ্ল্যাটে মাকে হত্যার ঘটনায় ছেলে সুমিত চৌধুরী ওরফে বিভুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সুমিতকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমিত চৌধুরী সাতকানিয়ার আমিলাইষ এলাকার মধু চৌধুরী বাড়ির সুখময়ের সন্তান। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, কারণ তিনি জামিনে গিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমিত চৌধুরী (৩১) সাতকানিয়ার আমিলাইষ এলাকার মধু চৌধুরী বাড়ির সুখময় চৌধুরীর ছেলে।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরের। গোসাইলডাঙ্গার সাসটেইন টাওয়ারের তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে কুমকুম চৌধুরীকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে প্রাণনাশ করা হয়। নিহতের বড় ছেলে সোমনাথ চৌধুরী সুজন ঘটনার দিন বাইরে থেকে ফিরে বাসার দরজায় দীর্ঘ সময় কড়া নাড়েন। একপর্যায়ে দরজা খুললে তিনি ভেতরে নিজের মাকে বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেই সময় সুমিতকেও আহত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিনি নিজের ঘাড়ে নিজেই আঘাত করেছিলেন বলে ভাইকে জানান। ওই ঘটনার পর থেকেই মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমিত দরজা খুলে দিলে সুজন বেডরুমের বিছানায় তার মাকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই অভিযুক্ত সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রমে মোট ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ঘটনার সময় সুমিতের নিজ ঘাড়ের জখম ও আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও উপস্থাপিত সকল প্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে আদালত চূড়ান্তভাবে সুমিত চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় সুমিতের ঘাড়েও রক্তাক্ত জখম ছিল।

















