দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটিয়ে ইরাক ত্যাগ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া অভিযানের মাধ্যমে দেশটিতে যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অধ্যায় সূচিত হয়েছিল, সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটল। ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল এই জোটের সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা, যার আগেই শেষ ব্যাচের সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সাথে ইরাক সরকারের করা একটি সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে এই প্রত্যাহার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। সেই সময় ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। এই দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির ইতিহাসে ২০০৭ সালে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০১১ সালে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহারের পর ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট বা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিতে আবারও দেশটিতে মার্কিন সেনাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থানকে ইরাক সরকার তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের এক নতুন সূচনা হিসেবে দেখছে। এই উপলক্ষ উদযাপনে ইরাকি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ পালন করছে। সরকারি ভাষ্যমতে, কোনো বিদেশি সামরিক শক্তি ছাড়াই ইরাকি বাহিনী এখন দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম।
তবে এই সেনা প্রত্যাহার ঘিরে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি ও সামরিক সহায়তা ছাড়া আইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ইরাকি বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এছাড়া, ইরাকে সক্রিয় থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সুযোগে নিজেদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফ-এর সাথে যুক্ত বা স্বতন্ত্র অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তেহরানের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের ধারণা, এতদিন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরাকে তেহরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে একটি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। এখন সেই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় সার্বভৌমত্ব অর্জনের আনন্দ, আর অন্যদিকে নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টির ঝুঁকি—এই দুই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ইরাক এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

















