বরগুনার বিষখালী ও কঁচা নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড স্টেশনের একটি দল চরদুয়ানী সংলগ্ন বিষখালী নদীতে সন্দেহভাজন একটি ফিশিং বোটকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু বোটটি পালানোর চেষ্টা করলে পিরোজপুর থানা পুলিশের সহায়তায় যৌথ বাহিনী সেটির পিছু নেয়। শেষ পর্যন্ত পিরোজপুরের পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় কঁচা নদীর তীরে বোটটি আটক করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা আগেই বোটটি ফেলে পালিয়ে যায়। কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে বরগুনার পাথরঘাটা থানার দক্ষিণ চরদুয়ানী সংলগ্ন বিষখালী নদীতে অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা।
রোববার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জব্দ করা বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২২ হাজার ৪৮১ পিস ভারতীয় শাড়ি, ৫০ পিস থ্রি-পিস এবং ৫০ পিস লেহেঙ্গা উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। উদ্ধার করা এসব পণ্য ও ফিশিং বোটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত মালামাল ও বোটটি পিরোজপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ফিশিং বোটও উদ্ধার করা হয়।
উপকূলীয় অঞ্চলে চোরাচালান রোধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বরগুনার পাথরঘাটার কাকচিরা এলাকায় বিষখালী নদীতে আরেকটি বড় অভিযানে ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করেছিল কোস্ট গার্ড। সেই অভিযানে ১৩ হাজার ৫০৭ পিস শাড়ি ও ১ হাজার ৪৬৬ পিস পাঞ্জাবিসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ের এই বড় দুটি উদ্ধার অভিযান উপকূলীয় অঞ্চলে চোরাচালান চক্রের দৌরাত্ম্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।











