ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অঘটনের সাক্ষী হলো হাইবুরি স্টেডিয়াম। কারাবাও কাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে পরাজিত করেছে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউন। ইংল্যান্ডের ফুটবল পিরামিডের ৮৪ ধাপ নিচে থাকা একটি দলের কাছে চ্যাম্পিয়নদের এই বিদায় ফুটবল বিশ্বে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। ড্রাফটকিংসের হিসাব অনুযায়ী, ম্যাচের আগে ফ্লিটউডের জয়ের সম্ভাবনা ছিল ১-এ ১৫। ম্যাচের আগে ড্রাফটকিংসের আগের হিসাব অনুযায়ী, আর্সেনালকে টপকে ফ্লিটউডের পরের রাউন্ডে যাওয়ার পক্ষে বাজির দর ছিল ১-এ ১৫ (প্লাস ১৫০০)। কারাবাও কাপে ৬৬ বছরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে বিদায় করেছে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউন। কিন্তু হাইবুরি স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে ঘটল ঠিক উল্টো। ম্যাচটা পেনাল্টি শুট আউটে টেনে নিতে ফ্লিটউড গোলকিপার জে লিঞ্চেরও দারুণ অবদান। ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এই ক্লাবটি মূলত স্ট্রাইকার জেমি ভার্ডির উত্থানের কারণেই এত দিন পরিচিত ছিল।
ম্যাচ শুরুর পর ড্রোন জটিলতায় খেলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও, মাঠে ফেরার পর ২১ মিনিটে ফ্লিটউডকে এগিয়ে দেন অ্যারন লুপালো। আর্সেনাল সেই গোল পরিশোধ করতে ৫০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করে, যখন ভিক্টর ইয়োরকেরেস সমতা ফেরান। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ৮৫ মিনিটে আর্সেনালের ম্যাক্স ডাউম্যান প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে লাথি মারলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন, ফলে দলটি ১০ জনের দলে পরিণত হয়। শুরুতে অবশ্য আতশবাজির ঝলকানিতে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ পর মাথার ওপর ড্রোন উড়তে দেখে খেলা থামান রেফারি। খেলোয়াড়দের সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই সুযোগ নিয়েই শেষ ষোলোর এই ম্যাচে ২১ মিনিটে ফরোয়ার্ড অ্যারন লুপালোর গোলে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। নির্ধারিত সময়ে ১–১ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জনে পরিণত হয় আর্সেনাল।
টাইব্রেকারে ফ্লিটউড গোলরক্ষক জে লিঞ্চ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। তিনি ব্রুনো গিমারায়েসের শট ফিরিয়ে দিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তরুণ ডিফেন্ডার কনর হহি লক্ষ্যভেদ করলে ফ্লিটউড নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করে। লিগ টু পয়েন্ট তালিকায় ১৮তম অবস্থানে থাকা দলটির এই জয় কোচ ম্যাট ললোরকে আবেগাপ্লুত করেছে। স্কাই স্পোর্টসকে তিনি বলেন, এটি ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাত। এরপর কিশোর ডিফেন্ডার কনর হহি লক্ষ্য ভেদ করলে টাইব্রেকারে ৫–৩ গোলের দারুণ জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয় লিগ টু পয়েন্ট তালিকায় ১৮তম দলটি। হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন।
আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মূল একাদশে ৯টি পরিবর্তন আনলেও কাই হাভার্টজ এবং পরবর্তীতে মার্টিন ওডেগার্ডকে মাঠে নামিয়েছিলেন। হার মানার পর তিনি প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের দিন। খেলোয়াড়দের চেষ্টার ঘাটতি ছিল না, কিন্তু ফুটবলে অনেক সময় এমন অপ্রত্যাশিত ফলাফল দেখা যায়। ম্যাচ শেষে ওই কথাটা বলা আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতার জন্য দিনটা তাই সত্যিই খুব দুঃখের।
এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমেও আর্সেনাল কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চতুর্থ স্তরের দল ব্র্যাডফোর্ড সিটির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছিল। অর্থাৎ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান রানারআপ দলটি গত এক দশকে টানা দুবার চতুর্থ স্তরের দলের কাছে হেরে এই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। ইংলিশ ফুটবলের নিম্নস্তরের ক্লাবের কাছে আর্সেনালের এই পরাজয় টুর্নামেন্টটির রোমাঞ্চকর প্রকৃতিরই পরিচয় বহন করে।
















