যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ধরন নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে গভীর অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মনোযোগ দেয়ার বদলে ট্রাম্প প্রায়শই বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক ও বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করছেন। দ্য আটলান্টিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এহেন আচরণ দলের অন্যান্য প্রার্থীদের নির্বাচনী সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নেতারা আশঙ্কা করছেন।
গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকানদের এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের প্রচার কৌশলের এমন চিত্র দেখা যায়। ওই সমাবেশে তিনি ওহাইওর সিনেটর জন হাস্টেডকে মঞ্চে ডেকে তার শারীরিক গঠনের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি জনপ্রিয় র্যাপশিল্পী নিকি মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেন, যা নিয়ে জনসমক্ষে নানামুখী আলোচনা চলছে। নিকি মিনাজ অবশ্য ওই সমাবেশে ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প আমেরিকানদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন এবং ভবিষ্যতে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ালে তিনি তাকেই সমর্থন দেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের কাছে যখন মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম প্রধান আলোচনার বিষয়, তখন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্য ও প্রচারণার ধরন ভোটারদের মূল উদ্বেগ থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। শুধু নিকি মিনাজ বা জন হাস্টেড ইস্যুই নয়, সম্প্রতি তিনি হোয়াইট হাউসের সংস্কার কাজ, কৌতুকশিল্পী বিল মাহেরকে ঘিরে বিরোধ এবং বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার মতো বিষয়েও কথা বলছেন। অথচ সাধারণ ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় নেতাদের মতে, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে কেবল ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, নিরপেক্ষ ও দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করাও জরুরি। অর্থনৈতিক ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতা বা দলের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার বদলে অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় দলের প্রার্থীরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ৩৩টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। রিপাবলিকানরা যদি এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তবে কংগ্রেসে ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। দলের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির প্রেক্ষিতে এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার ধরনে কোনো পরিবর্তন আনেন কি না।

















