তৈরি পোশাক ও জুতাশিল্পের লেবেল এবং প্যাকেজিং পণ্য দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সরবরাহ করতে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) যাত্রা শুরু করেছে একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট ওয়্যারহাউস। প্রযুক্তিভিত্তিক এই ওয়্যারহাউসটি চালু করেছে এভারি ডেনিসনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান প্যাক্সার বাংলাদেশ লিমিটেড। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত ৮৩০ বর্গমিটার আয়তনের এই স্মার্ট ওয়্যারহাউসে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার কার্টন পণ্য মজুত রাখা সম্ভব। এখানে পণ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং অর্ডারের ব্যাগিং থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। উদ্যোগটি মূলত এভারি ডেনিসনের বৈশ্বিক ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ৪.০’ কর্মসূচির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই শিল্পসক্ষমতাকে আরও জোরদার করছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে আরও গভীর করে তোলে। অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এভারি ডেনিসনের মতো আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু অর্থ বিনিয়োগই করছে না, তারা দেশের শিল্প খাতে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানের বিনিময়ও ঘটাচ্ছে। এই ধরনের অটোমেশন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান নতুন মার্কিন উদ্যোক্তাদের পটুয়াখালী ও যশোরে নির্মাণাধীন নতুন দুটি ইপিজেডে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। এ সময় বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন, ঢাকা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন প্যাক্সার বাংলাদেশ ২০০৩ সাল থেকে ঢাকা ইপিজেডে সফলভাবে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘ এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।












