ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সহপাইলটের হামলার শিকার ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। গত বুধবার তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ১৭২ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় মাচ্ছারের সাহসী ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ককপিটে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্রাউন প্রিন্স তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং এই সাহসিকতার জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেখ হামদান লিখেছেন, আমিরাত সরকার ও নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মাচ্ছারের প্রতি অশেষ সম্মান ও প্রশংসা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গর্বিত যে মাচ্ছার আমাদের দলের এবং দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত যে শান্তি ও জীবন রক্ষার মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তিনি তারই প্রকৃত প্রতিনিধি। এ সময় ক্রাউন প্রিন্সকে আহত পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা গেছে। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফ্লাইদুবাই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন স্মিত মাচ্ছার এবং তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। মাঝ আকাশে হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সতর্ক করেন। পরে যাত্রীদের সহায়তায় হামলাকারীকে নিবৃত করা হয় এবং দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাইলট স্মিত মাচ্ছারের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। হামলার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে ওমানে হামামের কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাঁকে বিমান চালনা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তবে এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

















