দেশে কোনো যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি (সাবেক র্যাব) এবং আনসার বাহিনীর সমন্বিত যে কার্যক্রম চলছে, তা কোনো যৌথ অভিযান নয়, বরং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো অপশক্তিকে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না। এই অভিযানগুলো প্রতিনিয়ত চলছে এবং ভবিষ্যতে এগুলোকে আরও জোরদার করা হবে।
তেজগাঁও এলাকায় আনসার বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩.৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান খিলগাঁও সদর দপ্তরের সীমাবদ্ধতা কাটাতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বাহিনীর দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার, ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার এবং ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স। কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে এখানে ডরমেটরি নির্মাণের পাশাপাশি আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুবিধা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সংকটে আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবি পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শুধু প্রত্যাহার নয়, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণ কাজের সময় জনদুর্ভোগ কমাতে পুরো রাস্তা একসাথে না খুঁড়ে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে দ্রুত পুনর্নির্মাণের কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

















