জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল টিমের সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঝালকাঠি শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উত্থাপিত রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
ফখরুদ্দিন খান রাজি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জুলাই সনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। সংবিধান সংশোধনের আড়ালে এই সনদের মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষেই জনমত স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে দল-মত, শ্রেণি ও পেশার বিভেদ অতিক্রম করে মানুষ ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এ আন্দোলনের সূত্রপাত।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় বিএনপির নোট অব ডিসেন্টের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সনদে স্বাক্ষরের সময় সংযুক্ত ব্যাখ্যা বা ফুটনোটের মাধ্যমে সংস্কারের বাস্তবায়নকে নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। এটি সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে এবং জনগণের ইচ্ছাকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ না নেওয়ার বিষয়টি সরকার গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে দুই ধরনের অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
সম্মেলনে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ফরিদুল হকসহ জেলা ও উপজেলার রুকনরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য গোপন ভোটে জেলা আমীর নির্বাচন সম্পন্ন হয়। জেলা আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্রীয়ভাবে সারা দেশের ফলাফলের সঙ্গে একযোগে ঘোষণা করা হবে। জেলা আমীর নির্বাচন উপলক্ষে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় জেলার চার উপজেলার রুকনরা উপস্থিত ছিলেন।













