ঢাকার গাজীপুরের কালীগঞ্জে বেপরোয়া গতির ট্রাকচাপায় এক পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে বরিশাল এসআরবি-৮ এর সদস্যরা পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানাধীন চারাখালী এলাকা থেকে ঘাতক ট্রাকচালক মাজহারুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল এসআরবি-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার সাথী আক্তার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত চালক ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত ট্রাকচালকের নাম মাজহারুল ইসলাম (২৫)।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর রাতে কালীগঞ্জ থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান, পিএসআই জাবেদ ওমর, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল ফজলে রাব্বি রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে তারা টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের কাছে চোর সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে তল্লাশি করছিলেন। এসময় কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
রাত সাড়ে তিনটার দিকে টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্য ও বিএনপি নেতাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ট্রাকের ধাক্কায় পিএসআই জাবেদ ওমর ও কনস্টেবল ফজলে রাব্বি গুরুতর আহত হন। ট্রাকটি বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লার ওপর দিয়ে চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর এসআই মো. মিজানুর রহমান ট্রাকটি থামানোর চেষ্টা করলে চালক গতি বাড়িয়ে তাকে ট্রাকের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রায় ৫০০ গজ টেনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে রাস্তায় ফেলে চালক পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।













