ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় অবস্থিত মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভবনের দেয়াল গাঁথুনির কাজে পচা ইট ও চিকন বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ছাদ ঢালাইয়ের সময় আধুনিক পদ্ধতির পরিবর্তে কাঠ-বাঁশের সেন্টারিং ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভবনের দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে ছাদের ঢালাই ঢেউয়ের মতো আঁকাবাঁকা ও ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় দেখা গেছে। এতে ভবনের নির্মাণমান ও ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, ভোলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে এই ভবন নির্মাণের কাজ পায় ভোলা সদরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. খালিদ হোসেন। অনুমোদিত চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কাজ শেষ করার জন্য ৫৪০ দিন সময় বরাদ্দ ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদার প্রকল্পটি নিজেরা বাস্তবায়ন না করে লালমোহনের বাসিন্দা হাজী জুলফিকার মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছেন। বর্তমানে উপঠিকাদার হিসেবে জুলফিকার মিয়ার লোকজন পুরো নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। চুক্তিপত্রে সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫-এর নিয়মাবলি, অনুমোদিত নকশা এবং কারিগরি শর্তাবলি মেনে কাজ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। চুক্তিপত্রে প্রকল্পের কাজ সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫-এর বিধান, অনুমোদিত নকশা, নির্ধারিত কারিগরি বিবরণ এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত অনুসারে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান জানান, নির্মাণকাজের অনিয়মের বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কোনো পরামর্শ বা নির্দেশ কানে নিচ্ছেন না। তিনি একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেও ঠিকাদার তা উপেক্ষা করেছেন। এমনকি নির্মাণাধীন এলাকা পরিদর্শনের সময় ঠিকাদার বা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাউকে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে বললেও তারা কাজ বন্ধ করেননি। নির্মাণকাজ চলাকালে সাইটে ঠিকাদার কিংবা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো লোককে পাইনি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আকতার হোসেনের উপস্থিতিতেই কাঠ-বাঁশের সেন্টারিং ব্যবহার করে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি মাদরাসার সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা হবে বলে দায়সারা মন্তব্য করেন। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মফিকুল ইসলামের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মন্ত্রণালয়ের সভায় আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদরাসা প্রধান আমাকে মৌখিকভাবে অনিয়মের বিষয়ে জানিয়েছেন। আমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নিয়মের বাইরে কোনো কাজ না করার এবং নির্দেশনা অমান্য করলে কাজ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। প্রকল্পের আওতায় চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ পয়োনিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

















