দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় থাকার পরেও কেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কোনোভাবেই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে রাজনৈতিক কর্মীদের মাঠে নামানো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল দুর্বলই করে না, বরং নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। অতীতে আওয়ামী লীগও একই ধরনের ভুল করেছিল বলে তিনি মনে করেন।
গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কারা, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা সফল ছিল—সেসব বিষয় তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার এবং শিল্পের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষার বিষয়টিকে তিনি একই সুতোয় গেঁথে দেখার আহ্বান জানান। তার মতে, পোশাকশিল্পের স্বার্থ ও শ্রমিকের অধিকার পরস্পরবিরোধী নয়। তবে এ দুটি বিষয়ের সুরক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতির খবরও এসেছে।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার তাগিদ দিয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে, যা বিবেচনায় রাখা জরুরি। মজুরি বোর্ড গঠন ও সরকারের কার্যক্রমে বিলম্ব নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর করতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে এবং প্রথম সভা হয়েছে ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে এমন ধীরগতি সরকারের সক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

















