ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা এই বিষয়ে একমত হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবের খসড়া তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তা সংসদে পেশ করা হতে পারে।
সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিরোধীরা এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। ভোটার তালিকা সংশোধনসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার নানা বিষয়ে তাদের এই আপত্তিগুলো এখন সিইসির বিরুদ্ধে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিরোধী শিবির।
তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, তাদের কোনো সিদ্ধান্তেই কোনো বিভক্তি ছিল না এবং অপর দুই কমিশনার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেননি। কমিশন দাবি করেছে, গত এক বছরে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিষয়সহ তাদের যাবতীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এটিই বিরোধীদের প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে গত মার্চ ও এপ্রিলে দুই দফায় সিইসিকে অপসারণের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ এপ্রিল রাজ্যসভার ৭৩ জন বিরোধী সংসদ সদস্য অসদাচরণের অভিযোগে নোটিশ জমা দিয়েছিলেন। সেই সময়ে নয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে ১২ মার্চ এবং ৬ এপ্রিলের আগের সব প্রচেষ্টাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও লোকসভার স্পিকারের কাছে খারিজ হয়ে যায়। বিরোধীরা জানিয়েছে, আগের নোটিশগুলোর সাথে নতুন তথ্য ও আপত্তিগুলো যুক্ত করে এবার নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে আগের নোটিশটিতে যে ৭৩ জন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন, তাদের মধ্যে সাতজন ইতোমধ্যে পক্ষ পরিবর্তন করেছেন। এই বাস্তবতায় বর্তমান সংসদীয় পরিস্থিতি ও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে ফের অভিশংসন নোটিশের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সিইসি অপসারণের প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের প্রক্রিয়ার মতোই জটিল, যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদ সদস্যের প্রস্তাবের পর তদন্ত ও বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়।
তর্কিত ১৪টি আপত্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীদের পূরণ করা সংবিধিবদ্ধ ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন আনা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল। দুই কমিশনারের বক্তব্য ছিল, ১৯৬০ সালের ‘রেজিস্ট্রেশন অব ইলেকক্টরস রুলস’ সংশোধন না করে এই ফর্মে পরিবর্তন আনা আইনত সিদ্ধ নয়। তাদের দৃষ্টিতে এগুলো ছিল অবৈধ ও অনুমোদিত নয় এমন সিদ্ধান্ত।
জবাবে নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে জানিয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ ও বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনেই তারা কাজ করে। এটি একটি বহুদলীয় সাংবিধানিক সংস্থা, যেখানে অভ্যন্তরীণ তদারকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও লিখিত মত বিনিময় স্বাভাবিক প্রশাসনিক অনুশীলনের অংশ। কমিশনের ভাষ্যমতে, নির্বাচনি প্রক্রিয়া উন্নত করতেই কমিশনাররা এই মতামত বা পরামর্শগুলো দিয়েছিলেন, যা কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা নয়।
কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, তাদের জারি করা প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক আদেশ ও সিদ্ধান্ত ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশনস অব সার্ভিস অ্যান্ড টার্ম অব অফিস) অ্যাক্ট, ২০২৩’ অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে কংগ্রেস উদ্যোগ নিয়েছে এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিক দলগুলোও এতে একমত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক একদিন পরই বিরোধীদের এই নতুন পদক্ষেপের খবর এল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই নোটিশে নয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল কংগ্রেস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে গত ১২ মার্চও একই ধরনের চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা, তবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সেই নোটিশটি খারিজ করে দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কংগ্রেস ও বিরোধী দলীয় সূত্রগুলোর মতে, সেই নোটিশটি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা নতুন করে এই রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে।

















