ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়ে চার মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিও ফুটেজে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করার মুহূর্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে আগুন, ধোঁয়া এবং পরবর্তীতে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরুভূমির পাথুরে এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পোড়া ধাতব অংশের মধ্যে সৌদি বিমানের চিহ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বড় উল্লম্ব পাখনাও দেখা গেছে। এছাড়া ভিডিওতে হুতি যোদ্ধাদের ধ্বংসাবশেষের পাশে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে এই ভিডিও ফুটেজের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুতি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে, মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমানটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনা করার সময় তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ৪৫০টি বিমান হামলার অভিযোগও তুলেছেন। এদিকে বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে যে, হুতিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে মন্তব্য করেন যে, মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না, এটি তাদের কাছে একটি ‘লাল রেখা’। তবে সৌদি আরবের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তারা সৌদি জোটের এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইয়েমেন কেন্দ্রিক এই সংঘাত এবং সৌদি জোটের পাল্টা বিমান হামলার কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবি ও অভিযোগ পশ্চিম এশিয়ার চলমান বৃহত্তর সংঘাতের পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ভিডিওটির দৃশ্যগুলো দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার হুতিদের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তী দিনের দৃশ্যে পাথুরে মরুভূমিতে ছড়িয়ে থাকা পোড়া ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব অংশ দেখানো হয়।

















