ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে শুক্রবার আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্পে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশে ৬৪ জেলায় চলমান এই ধারাবাহিক আয়োজনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্ব ছিল এটি। আয়োজনে এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৬৪ জেলায় ‘জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। ‘স্বপ্। তাঁদের সেই সক্ষমতা ছিল না যে আমাকে পড়িয়ে পড়া আদায় করবেন। আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান করছি, তাঁদের স্মরণ করছি।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের সুরে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়, যেখানে অংশ নেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সরাইলের শাহাজাদাপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সাইফুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। সে বলে, ‘আমার মা-বাবা নিরক্ষর হলেও আমার পড়াশোনার সময় তাঁরা পাশে বসে থাকতেন। এই আয়োজন আমাদের অনেক বেশি দায়িত্বশীল করেছে।’ চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় সরাইল উপজেলার শাহাজাদাপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। কিন্তু আমি যখন রাত জেগে পড়াশোনা করতাম, তাঁরা আমার পাশে বসে থাকতেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন শিক্ষার্থীদের এইচএসসিতেও এই সাফল্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া ইউনাইটেড কলেজের উদ্যোক্তা পরিচালক শাহীন মৃধা শিক্ষার্থীদের ডানা ভাঙা পাখির মতো স্বপ্নহীন না হয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ার পরামর্শ দেন।
নবীনগর ইচ্ছামতী উচ্চবিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম জানায়, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সে অনুষ্ঠানস্থলে এসেছে। গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুলের বন্ধু তাশফিয়া তাসনিম, সৈয়দা কানিজ জাহান, ইসরাত জাহান, লামিয়া আমান্তু রহমান, মহুনা রায় ও তানহা আক্তারসহ অনেক শিক্ষার্থীই প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তাশফিয়া তাসনিম জানায়, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান সে আগে কখনো দেখেনি।
অভিভাবকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সূর্যমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অনিন্দিতা পাল চৌধুরীর বাবা টুটুল পাল চৌধুরী জানান, প্রতিটি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই তিনি মেয়ের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন।
হেড অব কালচারাল এন্টারটেইনমেন্ট কবির বকুল শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে শপথ পড়ান। তিনি বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের শেষ সাফল্য নয়, বরং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই আসল লক্ষ্য।’ শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। কুইজ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা এক্সপেরিয়েন্স জোনে বিভিন্ন গেমে অংশ নেয় এবং ছবি তুলে আনন্দ উদযাপন করে।
পুরো আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ ছিল। আয়োজনের সহযোগী হিসেবে ছিল কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা।











