সন্ত্রাসবাদ নির্মূল ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেছে কাতার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে দেশটির দৃঢ় অবস্থান ও জাতিসংঘের সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনরায় আলোকপাত করা হয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাতার তার কূটনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিস বা ইউএনওসিটি-এর ট্রাস্ট ফান্ডে কাতার বিশ্বের বৃহত্তম দাতা হিসেবে স্বীকৃত। এখন পর্যন্ত দোহা এই তহবিলে মোট ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা প্রদান করেছে, যা সংস্থাটির প্রাপ্ত মোট অনুদানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এই বিশাল অংকের অর্থ বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিস বা ইউএনওসিটি (UNOCT)-এর ট্রাস্ট ফান্ডের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলো কাতার।
কাতারের সক্রিয় অবদান ও ভূমিকা
- বৃহত্তম অর্থায়নকারী: ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিসে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ আর্থিক জোগান দিয়ে আসছে কাতার।
- দোহায় ইউএনওসিটি কেন্দ্র: আচরণগত অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং সংসদীয় সম্পৃক্ততা বিষয়ক প্রোগ্রাম অফিস দোহার মাটিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
- সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সহায়তা: কাতারের পৃষ্ঠপোষকতায় দোহার ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিসের কার্যক্রমকে নিয়মিতভাবে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- কৌশলগত আলোচনা: জাতিসংঘের বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন কৌশল পর্যালোচনা রেজুলেশনে ইসলামিক গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে কাতার অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
বিশ্বশান্তি বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে দোহা তার অঙ্গীকার পূরণে সদা তৎপর। কাতার মনে করে, শুধুমাত্র সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্ব থেকে উগ্রবাদের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগে কাতার তার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আর্থিক সহায়তা অটুট রাখবে। জাতিসংঘের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে কাতার তাদের মানবিক ও নিরাপত্তার এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

















