রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত ওই এলাকায় পুলিশের অভিযান চলমান ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই ধরপাকড় চালানো হয়েছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু লোকজনকে আনা হয়েছে থানায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ধানমন্ডি থেকে তিনজনকে এবং মোহাম্মদপুর থেকে হাতবোমাসহ একজনকে আটক করে। ধানমন্ডির সেই মিছিল থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে অনেক নেতাকর্মী গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, সেখানে কয়েক শতাধিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
এদিকে, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়লে যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টির সামনে জড়ো হন এবং তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন সাংবাদিকদের জানান, কার্যালয়ের ভেতর আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি জাসদের কার্যালয় হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, ভেতরে ৪০০ থেকে ৫০০ লোক অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। কার্যালয়ের সামনে যুবদলের শত শত নেতাকর্মী অবস্থান নিলেও তিনি তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। তাহলে এটাকে কীভাবে জাসদের কার্যালয় বলতে পারি। যেখানেই আওয়ামী লীগের স্লোগান দেখব, সেখানেই যুবদল যাবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে জাসদ কার্যালয়ের তিনতলায় বৈঠক চলার দৃশ্য চোখে পড়ে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ৪০ জনকে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে মোট শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

















