ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে গণবিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও মুম্বাই পুলিশ এই সমাবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রশাসনের বাধার মুখেও তারা পিছু হটবে না। অনুমতি না পাওয়ায় ওইদিন থেকেই সিজেপি ‘জেল ভরো’ আন্দোলন শুরু করবে এবং দলের নেতারা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। দিপকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, মুম্বাইয়ের কারাগারে কত জায়গা আছে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। অনুমতি না মেলায় রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ মারফত দিপকে জানান, ‘মুম্বাই পুলিশ ২ অক্টোবর আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। বম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের একটি রায়কে উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, শিবাজি পার্ক এলাকাটি মূলত খেলাধুলোর জন্য নির্ধারিত এবং সেখানে জনসমাবেশ বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের সুযোগ নেই। এছাড়া বৃহণুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করা হয়নি। পুলিশ আরও জানায়, এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ও আবাসিক, এছাড়া আশেপাশে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ হলে শব্দদূষণ, যানজট সৃষ্টি এবং রোগীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সিজেপি এই অবস্থানকে নাগরিক কণ্ঠস্বর দমনের কৌশল হিসেবে দেখছে এবং পুলিশের দেওয়া লিখিত প্রত্যাখ্যানপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। তারপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে দেশের সর্বত্র। যুক্তির স্বপক্ষে মুম্বাই পুলিশ ২০১৩ সালের বম্বে (মুম্বাই নয়) হাইকোর্টের এক রায়ের উল্লেখ করে। তাতে বলা হয়েছিল, শিবাজি পার্ক খেলাধুলো ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
এদিকে মুম্বাই পুলিশের বাধার পাশাপাশি আসামেও সিজেপি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। রোববার রাজ্যের একটি ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কাকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় কর্মীকেও আটক করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিজিৎ দিপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাঙ্কাকে মুক্তি না দেওয়া হলে তিনি সোমবার তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে আসামে যাবেন। এতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাতে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলেও তারা পিছু হটবেন না বলে জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনারদের উপেক্ষা করে শাসক দল বিজেপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরই তারা যন্তর মন্তরের আদলে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনের ডাক দেয়। যদিও মুম্বাইয়ে সমাবেশের অনুমতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং সিজেপি নেতারা কোথায় জড়ো হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাদের আন্দোলনের আগেই গ্রেপ্তার করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করে শাসক দল বিজেপির স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য সিজেপি ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। বলেছিল, ওই সময়ের মধ্যে ইস্তফা না দিলে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ শুরু করা হবে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ম্যাগসাইসাই বিজয়ী পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি লাদাখ আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে সিজেপি নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে দূরত্ব তৈরির গুঞ্জন থাকলেও, ওয়াংচুক তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপ্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি সিজেপির নতুন ও সাহসী কণ্ঠস্বরের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আসছেন। তবে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থাকা সম্ভব না হলেও এই ন্যায়সংগত সংগ্রামের প্রতি তাঁর পূর্ণ নীতিগত সমর্থন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের প্রশ্নে সিজেপির দেশজোড়া আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন লাদাখের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
















