সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানী দাস এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুচিত্রার বিয়ে এর আগে অর্থের অভাবে তিনবার ভেঙে গিয়েছিল। তার বাবা একজন সেলুনকর্মী এবং মা অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কর্মহীন। দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা হওয়ায় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এবারও বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে আমি ও আমার মা-বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলাম।
সুচিত্রার পরিবারের এই অসহায়ত্বের কথা জানতে পারেন মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত মামুন বিশ্বাস। তিনি সুচিত্রার পরিস্থিতি তুলে ধরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সাহায্যের আবেদন জানান। এই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এগিয়ে আসেন। মানবিক অনুদানে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই অর্থের সহায়তায় ধুমধাম করে সুচিত্রার বিয়ে সম্পন্ন হয়। জামতৈল সূত্রধরপাড়ার বাসিন্দা সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাসের মেয়ে সুচিত্রার সঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের পলাশ কুমার ভৌমিকের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘সুচিত্রার বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে পোস্ট দিই। সেই পোস্ট দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মামুন বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে অর্থ সহায়তা পাঠাতে থাকেন। তিনি যে টাকা আয় করেন, তা দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমাদের খুব কষ্টে চলতে হয়।
বিয়ের প্রয়োজনীয় সব খরচ মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামুন বিশ্বাস। সুচিত্রার মা কামনা রানী বলেন, তাদের জীর্ণ ঘরে অভাব-অনটনের সংসার, মামুন বিশ্বাস পাশে না দাঁড়ালে এবারও হয়তো বিয়েটি হতো না। সুচিত্রা নিজেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কখনোই ভাবেননি এত বড় আয়োজনে তার বিয়ে সম্পন্ন হবে।
মানবিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে মামুন বিশ্বাস জানান, কেবল সুচিত্রা নয়, ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত তিনি দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি জানান, সহায়তাকারী দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষরাই মূলত এই সাফল্যের কারিগর, তিনি কেবল তাদের মাধ্যমে সহযোগিতার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন। যারা তার সহায়তায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাদের সবাই বর্তমানে সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন বলেও তিনি জানান।

















