বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। একদিকে দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে লিওনেল মেসির বিদায়, অন্যদিকে ৮৫ হাজার দর্শকের করতালির মাঝে জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি নিকোলাস ওতামেন্দি। বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচে মেসির বিদায়ের পাশাপাশি ওতামেন্দির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি ঘটল। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়। ৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার। আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।
ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ওতামেন্দি ফুটবল ভক্তদের উপহার দেন এক দুর্দান্ত দৃশ্য। মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে তিনি বল জালে জড়ান। গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে সতীর্থ মেসিকে জড়িয়ে ধরেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে আসা সম্মান আর ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। মাঠ থেকে উঠে আসার সময় আর্জেন্টিনার জার্সির ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই তারকা।
ডাগআউটে ফেরার পথে সতীর্থ মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওতামেন্দি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আর্জেন্টিনার পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী। তিনি আরও জানান, মূলত মেসির বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি এই ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এবং গোল করার মতো এমন অসাধারণ স্মৃতি নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।
২০০৯ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দেশের হয়ে মোট ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। রক্ষণভাগের দেয়াল হওয়ার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০টি গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি প্রজন্মের এই সদস্য দেশের হয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা—এই চারটি বড় শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

















